শেখ মো. কামাল উদ্দিন।।
আমি কি তোমার কাছে এত মূল্যহীন?
আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে বলে আমার প্রতি তোমার আর কোন দায়িত্ব নেই!
দেখো দেখো আমার শরীরের কী অবস্থা!
হ! তোমারে আমার দুখের কাহিনী শুনালে যেন তোমার মন নরম হয়ে কলিজা ফেটে যাবে আরকি!
আমি কতদিন যাবত তোমারে খোঁজতেছি এ কথাটা একবার জানাইতাম।
আমি স্বেচ্ছায় তোমার কাছে এলাম না তুমি তোমার আগ্রহে আমাকে এনেছিলে?
তুমি না তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আমার কত প্রশংসা করেছো।
তুমি না প্রতিদিন কতবার আমার দিকে তাকিয়ে তোমার সময়ের মূল্য দিতে।
কোথায় গেলো তোমার মধুমাখা কথামালা!
তোমার কারণে তোমার সজনরাও আমাকে মূল্যায়ন করেছে।
এখন তোমার অবহেলায় কেউ আমার খবর নিচ্ছে না।
এ-ই নিয়তির খেলা।
আমার ধারণা, তুমি অন্যের সৌন্দর্যে প্রীত।
আমি কিন্তু তোমার ছোঁয়ার অপেক্ষায় আছি।
ভাগ্যিস হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত তোমার সাক্ষাৎ। না হয় আমার না বলা ব্যথাতুর বাসনাটুকু তোমার অজানাই থেকে যেতো।
কি হলো নির্বাক দাঁড়িয়ে আছো যে! আজ তোমার কি কোনো কিছু বলার নেই?
সুযোগ পেয়ে বললাম। তোমার মনোভাব আত্মস্থ করছিলাম। তোমার সাক্ষাৎ পাওয়া আমার সুনসিবই বটে। কারণ তোমায় হারিয়ে আমার কত প্রিয়জনের সাথে মনোমালিন্য হয়েছে। যাই আগে তোমায় পরিচ্ছন্ন করি। ময়লাযুক্ত গাঁ ধুয়ে মুছে কথা বলি। তোমায় খোঁজে পাওয়ার সুসংবাদটা পরিবারের সকলকে জানাই।
এই দেখছো তোমায় দেখে সবাই কত খুশি! ইতোমধ্যে তোমার স্থান দখল করে নিয়েছে তোমার চেয়েও সুদর্শন অন্য কেউ।
ওরা কিন্তু হিংসা করেনি। আমার শিক্ষকতা পেশায় তুমি আমার প্রথম পাওয়া। আমার আপনজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান আয়োজন করে তোমায় গ্রহণ করেছি।
মনে আছে, তোমায় পাওয়ার জন্য কত প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে?
জীবনের সফলতার স্বাক্ষর নিয়ে, অভিভাবকের সমর্থন নিয়ে এগুতে হয়েছে। অবশেষে তোমাকে উত্তমরূপে সাজিয়ে গুছিয়ে পর্দা পুশিদার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার হাতে তোলে দেয়া হয়েছে।
তোমায় পেয়ে আত্মীয় সজনসহ সবাই খুশি। এবার হলোতো, খুশিতো!
এখন থেকে তোমার পূর্ণ মর্যাদা দিতে চেষ্টা করবো। তোমাকে পাওয়ার ফলে সমাজে আমিও বেশ সম্মানিত হয়েছি।
তোমার কায়িক অবসান হলেও আমার হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
Leave a Reply